স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম । ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার উপায়

Salim Mahamud

স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম । ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার উপায় 

একজন স্টুডেন্ট এর প্রথম এবং প্রধান কাজ হল পড়াশোনা করা। তবে কিছু কিছু স্টুডেন্টদের জন্য টাকা ইনকাম করা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর তখনই একজন স্টুডেন্ট ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার উপায় খুঁজে থাকে। একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করতে চাইলেই সে কিন্তু প্রফেশনাল ভাবে যে কোন একটি নির্দিষ্ট সেক্টরে সময় দিতে পারবে না। 

কেননা একজন স্টুডেন্টের হাতে সময় কম, রিসোর্স কম, পুঁজি কম এবং সক্ষমতাও কম। যার জন্য খুব সাবধানতা শহীদ এমন কিছু কাজ খুঁজে বের করতে হবে যেগুলোর ডিমান্ড বর্তমানে রয়েছে এবং সে কাজগুলো করে দিলে মানুষ আপনাকে টাকা দিতে আর রাজি থাকবে। এটা হতে পারে কোন সার্ভিস এটা হতে পারে কোন প্রোডাক্ট। তবে এমন কিছু খুঁজে বের করতে হবে যার চাহিদা রয়েছে এবং সে কাজটি করার জন্য মানুষ টাকা দিতেও প্রস্তুত। 

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে এমন কাজ কিভাবে খুঁজে পাবো বা কিভাবে বুঝবো? তার হিসাবটা খুব সহজ তাকে শুধুমাত্র এটা বুঝে উঠতে পারতে হবে যে আপনি কোন বিষয়ে নিজেকে দক্ষ মনে করেন। মূলত পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছু দিয়ে কোন না কোন ভাবে টাকা ইনকাম করা যায়। তবে আপনি সে সকল কিছু করতে পারবেন না ।তাই আপনাকে বুঝতে হবে যে আপনি কোন জিনিসটাতে ভালো এবং কোনটা করে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারবেন। 

উদাহরণস্বরূপ কেউ যদি লেখালেখি তো ভালো হয় তাহলে সে যেভাবে টাকা ইনকাম করবে তার সাথে এমন একজন এর টাকা ইনকাম করার উপায় মিলবে না যে কিনা প্রোগ্রামিং করতে এক্সপার্ট। প্রত্যেকটা ইন্টারেস্ট এর উপর নির্ভর করে একেক রকমের আয়ের উপায়। ছাত্র জীবনে স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করতে চাইলে তার প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট ইন্টারেস্ট খুঁজে বের করা জরুরী। এটা দেখতে হবে স্টুডেন্টটি কোন কাজটি করতে ভালো জানে। এবং সেই জানা বা দক্ষতাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য উপায় বের করা সম্ভব অনলাইনে ইনকাম করার জন্য। 

আমরা এই পর্যায়ে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট এর আলোকে  ছাত্র জীবনে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম কিভাবে করবে সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানাতে যাচ্ছি।  আশা করছি আপনি যদি নাও জেনে থাকেন যে আপনি কোন বিষয়টাতে নিজের দক্ষতা দেখাতে পারবেন তার পরেও এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে ধারণা পেয়ে যাবেন যে কোন  বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে কোন কোন সেক্টরে কি রকম কাজ পাওয়া যায়। 

ছাত্র জীবনে টাকা আয় করার উপায় সমূহ 

এখানে আমি তথাকথিত টিউটোরিয়াল দিব না যেখানে বলা হয়ে থাকে আপনি এখানে যুক্ত হোন, কাজ শিখুন, কাজ করুন এবং টাকা ইনকাম করুন। এবারের আর্টিকেলটিতে একটু ভিন্ন ধাঁচের হতে যাচ্ছে কেননা এই পর্যায়ে কাজের ধারাবাহিকতা নির্ভর করবে একজন স্টুডেন্ট কোন বিষয়ে ভালো বা দক্ষ সেটার উপরে। চলুন তাহলে শুরু করা যাক ইন্টারেস্ট এর উপর নির্ভর করে  একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম কিভাবে করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার জার্নি। 

ভালো লিখতে জানলে কিভাবে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করবে?

ব্লগিং 

আপনি একজন স্টুডেন্ট এবং আপনি লিখতে ভালোবাসেন। দেখা গেলআপনি ব্যক্তিগতভাবে এমন নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখেন এবং সে বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে লিখতে পারবেন সেক্ষেত্রে আপনি ব্লগিং করার মাধ্যমেও অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন। ব্লগিং এর মাধ্যমে কিভাবে টাকা উপার্জন করা যায় সে বিষয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত টিউটোরিয়াল রয়েছে। 

ব্লগিং এমন একটি প্যাসিভ ইনকাম জেনারেটর উপায় যার মাধ্যমে আজীবন রেভিনিউ পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। একজন ছাত্র হিসেবে পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করা এবং সে লেখালেখির মাধ্যমে আয় করা আসলেই দারুন একটি উপায়। একজন স্টুডেন্ট অনলাইন থাকায় ইনকাম করার জন্য অবশ্যই ব্লগিং করতে পারে। 

অনলাইন পত্রিকায় লিখা 

বর্তমান সময়ে কাগজের পত্রিকার বদলে অনলাইনে নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন পত্রিকা গুলো অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং প্রতিনিয়ত সবার আগে আপডেট খবরা খবর পেতে অনলাইন পত্রিকা গুলোতে মানুষ  ভিজিট করে থাকে। এ সকল পোর্টালগুলোতে যে কনটেন্ট থাকে বা যে লেখাগুলো থাকে সেটা তো অবশ্যই কেউ না কেউ লিখেছে তাই না? 

প্রশ্ন হচ্ছে এই লেখাগুলো কি লোকেরা ফ্রিতে লিখেছে? অবশ্যই না, এ সকল অনলাইন পত্রিকা গুলো বিভিন্ন কনটেন্ট লেখার জন্য লেখকদের ভাড়া করে থাকে, বা বলা যায় প্রতিটি কন্টেন্টের জন্য পেমেন্ট করে থাকে। তাই আপনি একজন স্টুডেন্ট হিসেবে যদি আপনার নিউজ রাইটার হওয়ার ইচ্ছা থেকে থাকে এবং আপনি এই বিষয়টিতে দক্ষতা দেখাতে পারবেন বলে মনে হয় তবে অবশ্যই অনলাইন পত্রিকায় লিখার মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।

এবার কথা হচ্ছে অনলাইন পত্রিকা গুলোতে নিউজ লেখার জন্য আপনাকে সুযোগ দিবে কে? কেউ দিবে না এটা আপনাকে নিজের তৈরি করে নিতে হবে এর জন্য আপনি যা করতে পারেন তাহলে প্রথমে google করে জেনে নিন ২০ থেকে ৩০ টি অনলাইন পত্রিকার নাম এবং সংগ্রহ করুন সেগুলোর ইমেইল এড্রেস। তারপর এক এক করে প্রতিটিতে ইমেইল করুন নিজের ইন্টারেস্ট দেখিয়ে। সুন্দরভাবে উপস্থাপনার পাশাপাশি আপনার লেখার কিছু ডেমো অ্যাটাচ করে দিন। এভাবে কাজ করে গেলে অবশ্যই এখান থেকে আপনার জন্য অফার আসবে এবং আপনি অনলাইন পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

আর্টিকেল রাইটার হওয়া 

লেখালেখির বিষয়ে আরো একটি মেজর সেক্টর হল আর্টিকেল রাইটার হওয়া। ছাত্র জীবনে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার জন্য আর্টিকেল রাইটার হওয়ার প্রফেশনটি বেছে নিতে পারে নির্দ্বিধায়। এবার প্রশ্ন হচ্ছে আর্টিকেল রাইটার এর কাজ কি? মূলত লেখালেখির জগতে অনেক বেশি ভেরিয়েন্ট রয়েছে যার মধ্যে একটি হলো আর্টিকেল রাইটিং হলো এক ধরনের সৃজনশীল লেখা এটা হতে পারে যে কোন বিষয় যেমন বিজ্ঞান ইতিহাস সাহিত্য প্রযুক্তি বিনোদন ইত্যাদি। 

মূলত একটা বিষয় এবং একটি নির্দিষ্ট টপিককে কেন্দ্র করে সেটা টপিকের উপর বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে সৃজনশীলতার শহীদ উপস্থাপনাকেই আর্টিকেল বলে। যেহেতু একজন স্টুডেন্ট পড়াশোনা এবং এই বিষয়ক কার্যক্রমের মধ্যেই থাকে সেক্ষেত্রে আর্টিকেল রাইটিং এর কাজ একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার জন্য করতেই পারে।

আপনি যদি একজন বাংলা আর্টিকেল রাইটার  হয়ে টাকা ইনকাম করতে চান সে ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ওয়ার্ডের জন্য আপনাকে দেয়া হবে আড়াইশো থেকে ৩০০ টাকা। প্রতিদিন যদি আপনি একটি আর্টিকেল করে থাকেন তবে মাস শেষে আপনার পকেটে থাকবে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। 

ইংরেজিতে ভালো লিখতে জানলে কিভাবে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করবে?

ফ্রিল্যান্স রাইটার 

বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতে সাধারণত বাংলা ভাষায় আর্টিকেল রাইটার চাহিদা খুব একটা দেখা মিলে না। তবে আপনি যদি ইংরেজিতে ভালো লিখতে জানেন তবে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণে ইংরেজি আর্টিকেল লেখার কাজ পেতে পারেন।

 আপনি শুধু ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম গুলোতে ভিজিট করে আর্টিকেল রাইটার লিখে সার্চ করলে দেখতে পারবেন অসংখ্য কাজের সমাহার রয়েছে সেখানে এবং খুব ভালো পরিমাণের অর্থ ইংরেজিতে আর্টিকেল লেখার জন্য। 

Medium এ লিখে আয় 

Medium হলো একটি জনপ্রিয় কনটেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধ, কবিতা, গল্প, কোড, ইত্যাদি শেয়ার করতে পারে। Medium-এ লেখালেখির মাধ্যমে আয় করার জন্য দুটি প্রধান উপায় রয়েছে:

পৃষ্ঠা-ভিত্তিক সাবস্ক্রিপশন: Medium-এ প্রকাশিত কিছু পৃষ্ঠা সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক। অর্থাৎ, সেই পৃষ্ঠাগুলির বিষয়বস্তু পড়তে হলে ব্যবহারকারীদের অর্থ প্রদান করতে হয়। যদি আপনি এমন একটি পৃষ্ঠা তৈরি করেন যা জনপ্রিয় হয় এবং অনেক সাবস্ক্রাইবার হয়, তাহলে আপনি সেই সাবস্ক্রিপশন ফি থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

অ্যাডসেন্স: Medium-এ গুগল অ্যাডসেন্স এপ্লাইয়েড। আপনার পৃষ্ঠায় গুগল অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হলে আপনি সেই বিজ্ঞাপন থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আপনার পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু যত জনপ্রিয় হবে, আপনার পৃষ্ঠায় তত বেশি বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে এবং আপনি তত বেশি আয় করতে পারবেন।

Medium-এ লিখে আয় করার জন্য আপনার ভালো লেখালেখির দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। আপনার লেখার বিষয়বস্তু আকর্ষণীয় এবং তথ্যপূর্ণ হওয়া উচিত। আপনার লেখার মধ্যে মূল্যবান জ্ঞান বা তথ্য থাকা উচিত যা পাঠকদের কাজে লাগবে।

কপিরাইটিং 

আপনি যদি মার্কেটিং বিষয়ক জ্ঞান ভালো থাকে এবং পণ্য কিভাবে বিক্রি করতে হয় তা খুব ভাবে আয়ত্তে রয়েছে এমন অবস্থায় হয় পাশাপাশি আপনি লেখালেখি করার মাধ্যমে আয় করতে চান তবে কপির আইটেম আপনার জন্য একদম সেরা পছন্দ। কেননা কপি রাইটিং এর মাধ্যমে আপনি একে নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসের সম্পর্কে এমন ভাবে লোকদের কাছে উপস্থাপন করবে যেমনটা করে করলে লোকেরা পণ্য বা সার্ভিস গ্রহণ করতে ইচ্ছুক হবে।

এক্ষেত্রে আপনি সর্বোচ্চ সুযোগ পাবে না আপনার  ক্রিয়েটিভিটি দেখানোর। কতটা আকর্ষণীয় ভাবে প্রেজেন্ট করতে পারেন আপনি তার সৃজনশীল তাই মূলত প্রকাশ পায় কপিরাইটিং এর মাধ্যমে। প্রতিনিয়ত কপিরাইটিং এর চাহিদা বেড়েই চলছে কেন না নিত্য নতুন পণ্য সেবা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ছাত্র অবস্থায় একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার জন্য অবশ্যই কপিরাইটিং ভিসাটিকে বিবেচনায় রাখতে পারে। 

এজেন্সি / কোম্পানিতে কাজ 

আপনি যদি লেখালেখি তে একটু পটু হয়ে যান সে ক্ষেত্রে আপনি যেকোনো একটি কোম্পানি কিংবা এজেন্সির হয়ে কাজ করতে পারবেন। কোম্পানি কিংবা এজেন্সিগুলো আপনাকে কাজ এনে দিবে আপনি সেগুলো করে এজেন্সি বা কোম্পানি থেকে টাকা উসিল করবেন। এক্ষেত্রে আপনার কোন পেরেশানি পোহাতে হবে না যে আপনি কাজ কোথায় ও কিভাবে পাবেন।  এটা মূলত আপনার কোম্পানি কিংবা এজেন্সি বুঝবে যে আপনাকে কোথা থেকে কাজ এনে দেওয়া হবে।

তবে অবশ্যই একটি এজেন্সি কিংবা কোম্পানির জন্য কাজ করতে গেলে লেখালেখির বিষয়ে আপনাকে বেশি দক্ষ হতে হবে। নয়তো বেশিদিন এখানে সার্ভাইব করা যাবে না। এক্ষেত্রে একটি এসেন্সি বা কোম্পানির কাজ এই নয় যে আপনি কেবল আর্টিকেল কিংবা এই জাতীয় কিছু লিখলেন। আপনি চাইলে আপনার ইংরেজির প্রতি দক্ষ থাকে কেন্দ্র করে  লাইভ কাস্টমার সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারেন। 

ভালো ইংরেজি বলতে জানলে

অডিওবুক তৈরি 

আপনি যদি এমন একজন হয়ে থাকেন যে ইংরেজি খুব ভালো বলতে পারে। অনবরত ইংরেজিতে কথা বলা এবং অন্যের কথা বুঝে সঠিকভাবে উত্তর দেয়ার মত এবিলিটি যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি ইংরেজিতে অডিও বুক তৈরি করতে পারেন। 

মূলত অডিও বুক হল একটি পূর্ণাঙ্গ বইয়ের অডিও ভার্শন। যারা একটি বই পড়ার মতো সময় বের করতে পারে না তারা মূলত সেই বইটি শুনতে পারবে অন্য যেকোনো কাজ করার পাশাপাশি। আর এমন একটি সার্ভিস প্রোভাইডের নামই হলো অডিওবুক।  এখানে মূলত একজন ভোকাল থাকে যিনি একটি বই সম্পূর্ণ পড়ে শোনান।

ইংরেজি বই কিংবা পিডিএফ থেকে অডিও বুক তৈরি করার জন্য প্রচুর জব পোস্ট করা হয়। তাই আপনি যদি ইংরেজি বলতে ভালো পারেন তবে অডিওবুক তৈরি করার কাজগুলো করতে পারেন। 

অনলাইনে সার্ভে করা 

যখনই আসবে স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার কথা তখনই একবার হলেও অনলাইনে সার্ভে করার কথা চলে আসবে। অনলাইন ছাড়বে এমন একটি প্রক্রিয়া আছে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্ররা নিজেদের ফ্রি সময়ে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর নিজেদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবে। 

অনলাইনে সার্ভে করার জন্য অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে তবে এখানে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজি ভালো পড়তে এবং বুঝতে জানতে হবে। কেননা কোন সার্ভিস সাইট বাংলা ভাষায় আপনার মতামত নিবেনা। তাই আপনি সার্ভে কমপ্লিট করে অনলাইনে ইনকাম করতে চাইলে অবশ্যই ইংরেজির ওপর ভালো ধারণা রাখতে হবে। 

পার্ট টাইম কাস্টমার সাপোর্ট 

কিছু কিছু কোম্পানির রয়েছে যারা কাস্টমার সাপোর্ট দেওয়ার জন্য লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ধরনের কাস্টমার সাপোর্ট দুইভাবে দেওয়া যায় প্রথমত লাইভ চ্যাটিং এর মাধ্যমে কাস্টমারদের অব্যাহত করা। দ্বিতীয়ত অডিও কলে কাস্টমারকে ফোন দিয়ে কিংবা কাস্টমারের কল রিসিভ করে কাস্টমারকে সার্ভিস প্রদান করা।

ভালো ব্যাপার এই যে আপনি যদি অনলাইনে ফ্রিলেন্স মার্কেট থেকে কিংবা লিঙ্কডিনের মাধ্যমে কাজের অফার পেয়ে থাকেন তবে খুব সম্ভবত আপনি রিমোট জব করতে পারবেন। যার সুবিধা এই যে আপনি নিজের ঘরে বসেও এই ধরনের কাজগুলো করতে পারবেন। তবে এটা খুব বেশি একটা দেখা যায় না মূলত  পার্ট টাইম কাস্টমার সাপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ দিয়ে এখানে বসে কাজ করায়। 

ভালো মার্কেটিং করতে পারলে 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং 

আপনার যদি মার্কেটিং বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ থেকে থাকে বা মার্কেটিং সংক্রান্ত কার্যক্রমে আপনি মজা পেয়ে থাকেন তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য সেরা পছন্দ একজন স্টুডেন্ট হিসেবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার জন্য। 

যেহেতু আপনার কাছে রিসোর্স কম,  শ্রমবল, পুঁজি কম তাই আপনি চাইলেই শুরু থেকেই বড় পরিমানের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে কোন কাজ শুরু করতে পারবেন না। আর এই কারণেই ছাত্র জীবনে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করতে হয় সে বিষয়টির মধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা রয়েছে, চাইলে দেখে নিতে পারেন। 

SEO 

ডিজিটাল মার্কেটিং এর খুব জনপ্রিয় একটা সেক্টর হলো SEO। একটা সাইট গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসার জন্য একটা কোম্পানি হাজার ডলার টাকা খরচ করতেও আগ্রহি থাকে। একজন স্টুডেন্ট যদি কয়েক মাস সময় দিয়ে ঠিক ভাবে SEO সংক্রান্ত কাজ গুলো শিখে তাহলে এই কেবল এই একটা সেক্টরে কাজ করেই একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করতে পারবে। 

SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কেবল যে কোম্পানির জন্য প্রয়োজন তা কিন্তু নয়, অনলাইন জগতে প্রতিটা পণ্য, সেবা সহ সকল স্তরেই SEO সংক্রান্ত কাজ রয়েছে। আর একজন স্টুডেণ্টের জন্য এটা শেখা ও করা বেশ লাভজনক। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

স্টুডেন্ট হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয় করার গ্রহনযোগ্যতা বেশ ভালো। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং একটি ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্র এবং এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্টুডেন্টরা এই ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা পায়।

আপনি যদি ডেইলি ৪-৫ ঘন্টা করে টানা ১ মাস সময় দেন তবে সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক) মার্কেটিং এ এক্সপার্ট হয়ে যাবেন, ছোট থেকে মাঝারি এবং বড় প্রতিষ্ঠানও আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের জন্য উঠে পরে লেগেছে, এবং অনেক টাকা ইনভেস্ট করছে এই সেক্টরে। তাই ছাত্র জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি স্টুডেন্ট হিসেবে অনলাইনে ইনকাম করতে চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিৎ।  

ভালো পড়াতে পারলে 

স্কিল ভিত্তিক কোর্স তৈরি 

আপনি যদি ভালো পড়াতে বা শেখাতে পারেন, এবং আপনার এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ইনকাম করতে চান তবে একটি নিদিষ্ট বিষয় খুজে বের করুন যেখানে আপনিই সেরা। তারপর সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে বানিয়ে ফেলুন একটি অনলাইন কোর্স আর সেটাকে বিক্রি করে আয় করতে পারেন অনায়াসেই। 

অবশ্যই স্কিল ভিত্তিক কোর্স তৈরি করার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা কোর্সটি শেষ করার পর কী অর্জন করতে পারবেন, তা তাদের জানিয়ে দেওয়া উচিত। লক্ষ্য নির্ধারণ করলে শিক্ষার্থীদের কোর্সে মনোযোগ দেওয়া এবং এটি থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে সাহায্য হয়।

সাধারণত একটি কোর্স তৈরি করতে যে সকল উপাদান গুলো প্রয়োজন তা হলো: 

  • নিদিষ্ট একটি স্কিল
  • কোর্সের স্ক্রিপ্ট ও রুটিন
  • ক্যামেরা
  • মাইক্রোফোন
  • কম্পিউটার
  • স্ক্রিন রেকোর্ডিং সফটওয়্যার
  • ভিডিও ইডিটিং সফটওয়্যার 

অবশ্যই আপনি কাদের জন্য কোর্স বানাচ্ছেন এবং তারা কোন বিষয়ে সাচ্ছন্দবোধ করবে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। কোর্স তৈরি হয়ে গেলে তা বিক্রি করতে পারেন এই প্ল্যাটফর্ম গুলোতে:

  • ফেসবুক মার্কেটিং
  • ইউটিউবিং (মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয়) 
  • ওয়েবসাইটে সাবস্ক্রিপশন

অনলাইনে একাডেমিক শিক্ষাদান 

ধরে নিচ্ছি আপনি পড়াতে বেশ ভালো পারেন এবং একাডেমিক বিষয়ে খুব দক্ষ। অন্যকে পড়াতে আপনার ভালো লাগে এবং পড়াতে চান অনলাইনে, এসকল কন্ডিশন একত্রিত হয়েও একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করতে পারবে। একাডেমিক শিক্ষাদানের জন্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে: 

  • ইউটিউব লাইভ
  • গুগল মিট
  • ফেসবুক লাইভ 
  • টপিক ভিত্তিক ভিডিও ইত্যাদি 

এর মাধ্যমে আপনি চাইলে শিক্ষাদানকে কোর্স ভিত্তিক উপস্থাপন করতে পারবেন, আবার সাবস্ক্রিপশন ফি রাখতে পারবেন কিংবা ফ্রীতে শিক্ষাদান করতে চাইলে এডস মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনি নিজে আয় করতে পারবেন। 

ভালো ভিডিও নিয়ে কাজ পারলে 

ইউটিউবে ভিডিও তৈরি 

আপনার যদি ভিডিওগ্রাফি ও ভিডিও করা নিয়ে বেশ আগ্রহ থাকে এবং এই কাজটি আপনি খুব ভালো ভাবে করতে জানেন তবে এই সেক্টরে রয়েছে অনলাইনে ইনকাম করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ। বর্তমান সময় থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে ভিডিও চলে যাবে নেক্সট লেভেলে। আমরা সকলেই এখন কোনো তথ্য জানার ক্ষেত্রে ভিডিওর মাধ্যমে জানতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। 

বর্তমানে ইউটিউব, ফেসবুক ভিডিও মনিটাইজেশনের মাধ্যেম আয় করার সু্যোগ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে আপনি ইউটিউবে নিদিষ্ট বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করে সেটাকে মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।  

ভিডিও ইডিটর হিসেবে কাজ 

যেখানেই ভিডিও তৈরির কথা আসবে, সেখানেই আসবে ভিডিও ইডিটরের কাজ। আপনি যদি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে গিয়ে ভিডিও ইডিটর লিখে সার্চ করেন তবে দেখবেন অনেক বেশি চাকরি রয়েছে অনলাইনে। বিভিন্ন কোম্পানি, ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষ ভিডিও তৈরির পর ইডিটর খুজে সে ভিডিওকে আরো বেশি সুন্দর ভাবে সেটাকে উপস্থাপনের জন্য। 

একজন ভিডিও ইডিটর মূলত ঘন্টা ও প্রজেক্টের ভিত্তিতে পেমেন্ট নিয়ে থাকে। সো, আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার জন্য ভিডিও ইডিটিংকে বেছে নিতে চান তবে এটা হবে আপনার জন্য লাইফ চেঞ্জিং সিদ্ধান্ত, And one of the best choice for earning money. 

পুরো আর্টিকেল থেকে আমরা কি শিখলাম?

একজন শিক্ষার্থী কিন্তু খুব বেশি একটা সময় পাবে না সারাদিনে। তাকে পড়াশোনাকে রাখতে হবে নিজের প্রথম কাজ হিসেবে। তবে আপনি যখন কলেজ – ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়ন করেন তবে এটা আপনার জন্য খুব জরুরি হয়ে দাঁড়ায় যে আপনাকে এখন পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করতে হবে। 

এমতাবস্থায় আপনাকে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সফট স্কিল অর্জন করে সেটাকে ইনকাম করার হাতিয়ার বানাতে হবে। এই আর্টিকেলটিতে দেখানো হয়েছে ৬ টি পৃথক পৃথক ইন্টারেস্টের দিক যে দিক গুলোতে রয়েছে মোট ১৭ টি উপায় বা কাজ যেগুলো করে একজন স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করতে পারে। আশা করি এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে আপনি একটা সচ্ছ ধারণা পেয়ে গেছেন কিভাবে টাকা ইনকাম করতে পারবেন পড়াশোনার পাশাপাশি স্টুডেন্ট হিসেবে। এমনই অনলাইনে টাকা ইনকাম করার দারুন সব উপায় সম্পর্কে জানতে অনুসরণ করুন আমাদের ওয়েবসাইটের Earning Ways ক্যাটাগরিটি।  

Leave a Comment