রাইড শেয়ারিং থেকে আয় করার উপায়

Salim Mahamud

টাকা ইনকাম করার অনেক উপায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে রাইড শেয়ারিং থেকে আয় করা। এটি অন্যতম সহজ একটি উপায়। যদি আপনার কাছে কোন মোটরবাইক বা কোন গাড়ি থাকে তবে আপনি বিভিন্ন  ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। আজ আমরা রাইড শেয়ারিং কি? রাইড শেয়ারিং কিভাবে কাজ করে? রাইড শেয়ারিং করে আয় করার নিয়ম কি?সেই সাথে রাইড শেয়ারিং এর নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্য এবং বাংলাদেশের সেরা রাইডার শেয়ারিং অ্যাপ এর বিস্তারিত জানবো-আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে। 

রাইড শেয়ারিং কি?

রাইড শেয়ারিং হলো এমন একটি ধারণা বা বিষয় যেখানে একজন মানুষ অন্য মানুষদের সাথে তার নিজের যানবাহন শেয়ার করে অর্থাৎ তার যানবাহন অন্যদের যাতায়াত এর জন্য শেয়ার করে এবং এর বিনিময়ে কিছু টাকা উপার্জন করে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিসসমুহের ধারণা অনেকটা চিরাচরিত গাড়ি ভাড়ার প্রক্রিয়ার মতো একই ধরনের। পার্থক্য শুধু রাইড শেয়ারিং অ্যাপসমুহের ক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করা হয় স্মার্টফোনের অ্যাপের মাধ্যমে। এখানে আলাদা দামাদামির কিছু নেই।

রাইড শেয়ারিং থেকে আয় করার উপায়

বর্তমানে সাশ্রয়ের সঙ্গে ও নিরাপদে যাতায়াত করার সুবিধার কারণে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থায় কিছু ছোট ছোট ধাপ অতিক্রম করার মাধ্যমে আয় করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক – 

সর্বপ্রথম আপনার সকল প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে  আপনাকে যেকোন রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। হতে পারে এটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এর মাধ্যমে। প্লাটফর্মে যখন আপনি রাইডার হিসেবে যুক্ত হবেন তখন থেকেই কেবল আপনি রাইড রিকোয়েস্ট পাবেন এবং রাইড শেয়ারিং করতে পারবেন। 

১ম ধাপঃ প্রথমত,একজন যাত্রী নিকটস্থ কোনো রাইডারকে রিকোয়েস্ট পাঠান রাইড শেয়ারিং অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। 

২য় ধাপঃ এই রিকোয়েস্ট রাইড শেয়ারিং অ্যাপ এর মাধ্যমে নিকটবর্তী রাইডারের কাছে পৌঁছে। 

৩য় ধাপঃ  যদি ঐ রিকোয়েস্ট রাইডার গ্রহণ করেন তখন তিনি ঐ যাত্রীকে উল্লেখ করা স্থান থেকে যানবাহনে তোলেন। 

৪র্থ ধাপঃ যখন যাত্রীকে গন্তব্যে পৌছেঁ দেওয়া হয় তখন ঐ যাত্রী হ্যান্ড ক্যাশ, মোবাইল ব্যাংকিং অথবা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের দ্বারা বিল পে করে দেন। আর এভাবেই এখন রাইডার তার রাইড শেয়ার করার বিনিময়ে আয় করতে সক্ষম হন।

যাত্রী এবং রাইডার প্রত্যেকেই একে অপরকে অ্যাপে তাদের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে রিভিউ দিতে পারেন। যা একজন অপরিচিত মানুষের সাথে রাইড শেয়ার করার ক্ষেত্রে খুবই দরকারি। রাইডারদের ক্ষেত্রেও এই রেটিং বেশ কার্যকর। কারণ, এই রিভিউয়ের জন্য তিনি পরবর্তীতে বেশি যাত্রী বা কোম্পানি থেকে বোনাস এবং পুরষ্কারও পেতে পারেন।

জেনে রাখা ভালো,রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো রাইডার এবং যাত্রী উভয়ের ফোনের জিপিএস সেবার উপর নির্ভর করে কাজ করে। 

বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম গুলো

১) পাঠাও (Pathao): ২০১৬ সালে প্রথম রাইড শেয়ারিং কোম্পানি হিসেবে ‘পাঠাও’বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে । সারাদেশে তাদের রয়েছে ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক, এবং তাদের রয়েছে ৩ লাখেরও অধিক রাইডার। 

২) উবার (Uber) : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া রাইড শেয়ারিং কোম্পানি ‘উবার’ও বাংলাদশে খুব জনপ্রিয়  রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম। এটিও ২০১৬ সালে তাদের যাত্রা এই দেশে শুরু করেছিল।

৩) ওভাই (Obhai) : ওভাই হলো বাংলাদেশী রাইড শেয়ারিং সার্ভিস। এই প্লাটফর্মটির সেবা পাওয়া যায় ঢাকা,-চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লা, কক্সবাজার এর মত শহরগুলোতে।

তাছাড়াও আরো বেশকিছু রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম রয়েছে – আমার বাইক, যাবো, পিকমি, সহজ, ডিজিটাল রাইড,টেক্সিওয়ালা,গতি,চলো ইত্যাদি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত ১৫ টি কোম্পানি নিবন্ধিত আছে । নারীদের আলাদা সুরক্ষা প্রদানে চালু হয়েছে কিছু মহিলা দ্বারা চালি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। পিংক স্যাম, লিলি বা ওবোন এর মত এসব সেবাও অনেকে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন। মোট কথা, দেশের রাইড শেয়ারিং সেবা এখন অনেক সহজলভ্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেশের রাইড শেয়ারিংয়ের অধিকাংশ পাঠাও ও উবারের দখলে।

রাইড শেয়ারিং থেকে আয় করতে যা যা প্রয়োজন 

রাইড শেয়ারিং থেকে আয় করতে অবশ্যই একটি স্মার্টফোন থাকা আবশ্যক। এছাড়াও ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। কার ও বাইকের মাধ্যমে আয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই বাইক ও কারের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যথাযথ ডকুমেন্ট থাকা একান্ত আবশ্যক। প্যাসেঞ্জার থেকে পাওয়া ভাড়ার ১০% থেকে ১৫% রাইডিং প্লাটফর্ম সার্ভিস চার্জ হিসেবে গ্রহণ করে এবং অবশিষ্ট টাকা রাইডারের থাকে।

নিরাপত্তার জন্য রাইডারদের যে বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত 

১) প্রথমে যাত্রীকে যাচাই করা

রাইড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করার পর এবং যাত্রা শুরুর আগে যাত্রীরা যেমন গাড়ির লাইসেন্স প্লেট, আপনার ছবি ইত্যাদি অ্যাপের সঙ্গে মিলিয়ে নেন, তেমনি আপনিও তাদের নাম, ছবি ইত্যাদি মিলিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া, ট্রিপের অনুরোধ গ্রহণ করার আগে যাত্রীর রেটিং দেখে নিন।

২) সতর্কতা অবলম্বন করা 

রাইড শুরু করার পর নিজেকে এবং যাত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন, সবসময় রাস্তার দিকে চোখ রাখুন এবং গাড়ি চালানোর সময় ফোনে মেসেজিং বা কল করা থেকে বিরত থাকুন এবং গাড়ি চালানোর সময় ঝিমানো এড়াতে প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিন।

৩) সিট বেল্ট ব্যবহার করা

গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো সিট বেল্ট এর ব্যবহার। তাই নিজে সিট বেল্ট পরুন, যাত্রীদেরও সিট বেল্ট পরতে উৎসাহিত করুন। সিডিসির তথ্য মতে,সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো ও আহত হওয়ার হার কমাতে এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

৪) রেটিং দেওয়া

যাত্রা শেষ হওয়ার পর অ্যাপে যাত্রী সম্বন্ধে রেটিং ও মতামত জানানোর সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ গ্রহণ করুন।

পরিশেষে কিছু কথা 

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের কদর বর্তমান সময়ে এতটাই বেড়েছে যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যাই হোক ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ  বাজারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সফলতার সাথে।আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনি আয় করে নিতে পারে কিছু অতিরিক্ত টাকা।তাই আর দেরি না করে সব নিয়ম ও ধাপ অতিক্রম করে এখনই আপনার যানবাহন দিয়ে রাইড শেয়ারিং শুরু করে দিন।

Leave a Comment